সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
আতর বিক্রেতার মেয়ের ঘটনা……… একজন মাতাল ব্যক্তির বেহেশতে যাওয়ার গল্প……. ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে ফেরত পাবেন যেভাবে…. ঈদের দিনের পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন আবহাওয়া অধিদপ্তর এবার কানাডা ক্ষেপেছে মুসলিম বিদ্বেষী ভারতীয়দের উপর স্মার্টফোনে যুক্ত হচ্ছে ই-সিম প্রযুক্তির বিপ্লব চলছে বিশ্বজুড়ে। কে কত দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে,‌ লড়াই তা নিয়েই। তাইতো ফাইভ-জি’র পর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সিক্স-জি নেটওয়ার্কিং পরিষেবা উৎপাদন করতে কাজ করছেন গবেষকরা। ফাইভ-জি কেমন হবে তা অনেকেরই জানা। এবার প্রশ্ন আসতেই পারে, সিক্স-জি কী এবং কেমন হবে? বাড়ি তলায় ১২০ বছরের গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান একজনের খাবার আশিজন খেল…… মাহে রমজানের ৩০ দিনের ৩০টি ফজিলত কি কি জেনে নিন

মৃত্যুর তিন হাজার বছরের পরে মমি জানাল শেষ ইচ্ছা!

Monoj Mondol
  • আপডেট টাইম : ১৬ মার্চ, ২০২০
  • ১৩৪ Time View

মিশরের প্রাচীন শহর থিবসের কারনাকে দেবতা আমানের মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন নেসিয়ামান। তিন হাজার বছর আগে মন্দিরেই তার মৃত্যু হয়। এত বছর পর মমি করে রাখা সেই পুরোহিতর মৃত্যুর সময়ে তার শেষ কথা শুনলেন বিজ্ঞানীরা।
মৃত্যুর সময়ে তার শেষ ইচ্ছা কী ছিল, তা তিনি এত বছর পর জানালেন বিজ্ঞানীদের। তার কণ্ঠ খুব ক্ষীণ এবং অস্পষ্ট হওয়ায় শেষ ইচ্ছার কথা বিজ্ঞানীরা এখনও ভাল করে বুঝতে পারেননি। তবে তিনি যে কিছু শব্দ উচ্চারণ করেছেন তা স্পষ্ট শুনেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, খুব তাড়াতাড়ি উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে মৃত্যুকালে তিনি ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে উদ্ধার করতে পারবেন তারা। মৃত্যুর তিন হাজার বছর পর পূর্ণ হবে তার শেষ ইচ্ছা। এত বছর পর ‘জেগে উঠে’ কী বললেন ওই পুরোহিত? আর কী ভাবেই বা তা সম্ভব করলেন বিজ্ঞানীরা?
ইতিহাসবিদেরা জানিয়েছেন, শেষ জীবনে মুখে সংক্রমণ হয়ে গিয়েছিল তার। সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, দাঁত, মাড়ি ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছিল। এই সংক্রমণ থেকেই সারা দেহে মারাত্মক আলার্জি হয়ে যায়। মাত্র ৫০ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মুখের সংক্রমণের জন্য শেষ জীবনে তিনি কথা বলতে পারতেন না। খুব কষ্টে কিছু উচ্চারণ করতে পারতেন মাত্র। তার দেহ মমি করে প্রথমে ওই মন্দিরের ভিতরের একটি ঘরে রাখা ছিল। পরবর্তীকালে ১৮২৩ সালে মমিটা উদ্ধার করে ইংল্যান্ডের লিডস সিটি মিউজিয়ামে দর্শকদের জন্য প্রদর্শন করে রাখা হয়। এই মমি নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা চালিয়েছেন। সে সময়ের মিশর সম্পর্কে অনেক তথ্য এই মমি থেকে পাওয়া গেছে।

ব্যবচ্ছেদ এবং এক্স-রে ব্যবহার করে তার রোগ সম্পর্কেও তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে গত বুধবার সায়েন্টিফিক রিপোর্টস নামে এক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি চাঞ্চল্য তৈরি করে দিয়েছে বিশ্ব জুড়ে। এই জার্নালেই মৃত্যুর তিন হাজার বছর পর ওই মমির কথা বলার উল্লেখ রয়েছে। কী ভাবে সম্ভব হল? তারও ব্যাখ্যা রয়েছে জার্নালে। থ্রিডি প্রিন্টার ভোকাল বক্সের মাধ্যমে মমিকে কথা বলিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
মানুষের ল্যারিংসে শব্দ তৈরি হয়। আর ভোকাল ট্র্যাক প্যাসেজে সেই শব্দ ফিল্টার হয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি করে। এই পুরো বিষয়টাকে একসঙ্গে মানুষের ভয়েস বক্স বলা হয়। তিন হাজার বছর আগে নেসিয়ামান শেষ যে কথাটা বলেছিলেন, তা জানার জন্য প্রথমে বিজ্ঞানীরা তার ভোকাল ট্র্যাকের ডাইমেনশন ৩ডি-প্রিন্টারে কপি করেন। তবে এই পদ্ধতি তখনই সম্ভব, যদি মৃত ব্যক্তির ভোকাল ট্র্যাকের নরম কোষগুলো অক্ষত থাকে। ওই মিশরীয় পুরোহিতের দেহ এত সুন্দর ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল যে, এত বছর পরও ভোকাল ট্র্যাকের কোষগুলো অক্ষত রয়েছে। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে প্রথমেই সেটা পরীক্ষা করে জেনে নেন বিজ্ঞানীরা। তারপর থ্রিডি-প্রিন্টারে ওই মমির ভোকাল ট্র্যাকের কপি করে ল্যারিংসে কৃত্রিম ভাবে তার কণ্ঠস্বর তৈরি করেন। তাতে তাকে ক্ষীণ কণ্ঠে ‘বেড’ বা ‘ব্যাড’ জাতীয় কিছু শব্দ উচ্চারণ করতে শোনা গিয়েছে।
এটাই মৃত্যুর আগে শেষ ‘কথা’ ছিল তার। এর অর্থ কী তা জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তার শেষ বাক্য জানারও চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। শেষ বলা কথাগুলো জানলে পারলে এত বছর পরও তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হবে, দাবি বিজ্ঞানীদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ জাতীয় আরো খবর..